টুডে নিউজ সার্ভিস , কলকাতাঃ দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের বিতর্কিত ৬০টি বুথকে ঘিরে বড় প্রশাসনিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত মিলল। ওই ৬০ বুথের ফার্স্ট, সেকেন্ড, থার্ড পোলিং অফিসার এবং প্রিসাইডিং অফিসার মিলিয়ে মোট ২৪০ জন, সঙ্গে রিটার্নিং অফিসার ও অবজার্ভার— সব মিলিয়ে ২৪২ জনের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রের খবর। রিপোর্টটি পাঠিয়েছেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলা নির্বাচনী আধিকারিক এবং বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত।
সূত্রের দাবি, কর্তব্যে গাফিলতি, অভিযোগ উপেক্ষা এবং সময়মতো পদক্ষেপ না করার মতো একাধিক বিষয় রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট বুথগুলিতে ইভিএমের উপর ‘ব্ল্যাক শেড’ লাগানো ছিল। রিটার্নিং অফিসার সেই বিষয়টি স্বীকার করলেও, কেন অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরে বিষয়টি নজরে আসে যখন ভোটদানের হার ছিল ৩৮ শতাংশ। কিন্তু কার্যকর পদক্ষেপ করতে করতে সেই হার পৌঁছে যায় ৬২ শতাংশে। কেন এত দেরি হল, কেন ভোট প্রক্রিয়া সাময়িক বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হল না, সেই সব প্রশ্ন খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এ দিকে কমিশনের সচিব-সহ একাধিক শীর্ষ আধিকারিক কলকাতায় মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরে বসে ওয়েবকাস্টিং ফুটেজ খতিয়ে দেখছেন বলে খবর। বুথভিত্তিক ফুটেজ একে একে পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে, কোথায় কী ধরনের অনিয়ম ঘটেছে।
বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছেন বলেও সূত্রের দাবি। কমিশন মহলের ইঙ্গিত, একাধিক আধিকারিকের বিরুদ্ধে সাসপেনশন প্রায় নিশ্চিত। এমনকি কারও কারও চাকরি নিয়েও বড় সিদ্ধান্ত হতে পারে।
ফলতা-কাণ্ডে কমিশনের পরবর্তী পদক্ষেপ এখন রাজনৈতিক মহলেও তীব্র আগ্রহের বিষয় হয়ে উঠেছে। আগামী ৩০ তারিখকে ঘিরে প্রশাসনিক মহলে বাড়ছে জল্পনা।
