স্কুলের উন্নয়ন খাতের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে

Burdwan Today
3 Min Read

 

টুডে নিউজ সার্ভিস, বর্ধমানঃ স্কুলের উন্নয়ন খাতের টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠল খোদ প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করেন অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক প্রবীর কুমার কুণ্ডু। আর ওই শিক্ষকের দূর্নীতির বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই প্রাথমিক শিক্ষা সংসদে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন পার্শ্ব শিক্ষকরা। 

২০১৬ সালে কাঞ্চননগর ডি.এন দাস প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন প্রবীর বাবু।‌ ২০১৬ সালের পর থেকে স্কুল উন্নয়ন ফান্ডে টাকা আসতে শুরু করে। অভিযোগ এই বছরের পর থেকে স্কুলের কোনো উন্নয়ন করা হয়নি।এমন কি উন্নয়ন ফান্ডের টাকা কোন কোন খাতে ব্যায় করা হয়েছে তারও কোনো তালিকা প্রকাশ করেন না প্রধান শিক্ষক। স্কুলের পার্শ্ব শিক্ষকদের নিয়েও কোনো আলোচনা করেন নি বলে অভিযোগ পার্শ্ব শিক্ষকদের। এমনকি মিড-ডে মিলের রাঁধুনি ও মুদি দোকানের টাকা না মিটানোয় ক্ষোভ প্রকাশ করেন ব্যবসায়ীরা। 

পাশাপাশি প্রধান শিক্ষক সুদে টাকা নিয়ে পরিশোধ না করায় সুদখোরদের অত্যাচারে স্কুলের পঠনপাঠন ব্যহত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন স্কুলের পার্শ্ব শিক্ষকরা। তারা স্কুলের পঠনপাঠনের সার্থে প্রধান শিক্ষক প্রবীর কুমার কুন্ডু-কে বদলির দাবি করেন। 

পার্শ্ব শিক্ষক শেখর অধিকারী বলেন, ২০১৯-২০ অর্থবর্ষে স্কুল উন্নয়ন ফান্ডে যে টাকা এসেছে তার কোনো খরচ না করে নিজের হেফাজতে রেখে দিয়েছে, সেই টাকার কোনো হিসেব দিচ্ছে না। এই বিষয়ে বেশ কয়েকবার প্রাথমিক শিক্ষা সংসদে জানানো হয়েছে। তাতেও কোনো কাজ হয়নি বলে অভিযোগ। এছাড়া নিজের প্রয়োজনে বিধায়কের দাদা সহ একাধিক ব্যাক্তির কাছে থেকে টাকা সুদে নিয়ে সেই টাকা পরিশোধ না করায়, তারা স্কুলে এসে ঝামেলা করেন, ফলে স্কুলের পঠনপাঠন ব্যহত হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। 

পাশাপাশি একই অভিযোগ করেন সহ শিক্ষিকা রুকসার নীহার। তিনি আরও বলেন, স্কুলে এই রকম পরিবেশ আমরা চাইনা। অন্যদিকে মিড-ডে মিলের রাঁধুনিদের মাসের বেতন না দেওয়ায় পাশাপাশি তাদের পরিবারের লোকেদের কাছ থেকেও টাকা সুদে নিয়েছেন বলে জানান পারুল দাস। 

এদিন মুদি ব্যবসায়ী অনিল মণ্ডল বলেন, স্কুলের মিড-ডে মিলের খরচ বাবদ প্রায় ১৮ হাজার টাকা বাকি আছে। আজ দেবো কাল দেবো বলে ঘুড়িয়ে চলেছেন। এই বিষয়ে স্কুলের সকল শিক্ষকরা জানেন। টাকা পরিশোধ না করলে আগামী দিনে সমস্ত মাল দেওয়া বন্ধ করে দেব।

অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে প্রধান শিক্ষক প্রবীর কুন্ডু বলেন, অডিট রিপোর্ট দেখলেই জানতে পারবেন। স্কুলের লোহার আলমারির, তাঁক, বিদ্যুতের কাজ, স্কুল রং করা, মিড-ডে মিলের চালা তৈরি সহ একাধিক উন্নয়ন করা হয়েছে। উন্নয়ন খাতের জন্য টাকা তেমন কিছু আসে না বলে জানান প্রাধান শিক্ষক। 

প্রাইমারী শিক্ষা সংসদে চেয়ারম্যান মধুসূদন ভট্টাচার্য বলেন, অভিযোগ পেয়েছি এসআই-কে বলা হয়েছে তদন্ত করে রিপোর্ট জমা দিতে। রিপোর্ট পাওয়ার পর দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্কুলের পঠনপাঠন যাতে ব্যহত না ঘটে সে বিষয়ে লক্ষ্য রাখবেন চেয়ারম্যান।

Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *