অনুমতি ছাড়াই শিমুল গাছ কাটায় চাঞ্চল্য তদন্তে বনদপ্তর

Burdwan Today News Service
2 Min Read

টুডে নিউজ সার্ভিসঃ বৃহস্পতিবার পূর্ব বর্ধমানের, গলসি থানার শিকারপুর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় বহু বছরের পুরনো একটি শিমুল গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়ায়। অভিযোগ, এদিন সকালে হঠাৎই কয়েকজন ব্যক্তি দামোদর নদীর বাঁধের পাশের ওই গাছটি কাটতে শুরু করলে স্থানীয় বাসিন্দাদের নজরে আসে। তারা তৎক্ষণাৎ বাধা দিয়ে গাছ কাটার কারণ জানতে চান।

স্থানীয়দের দাবি, শ্রমিকরা জানান যে গাছ কাটার অনুমতি তাদের রয়েছে। তবে এতে সন্দেহ হওয়ায় বাসিন্দারা বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। গাছ কাটতে আসা সেখ রবিউল জানান, “আমাকে পঞ্চায়েত থেকে অনুমতি দেওয়া হয়েছে। কুড়ি হাজার টাকায় গাছটির টেন্ডার পেয়েছি। স্থানীয়রা বাধা দেওয়ায় কাজ আপাতত বন্ধ রেখেছি”।


ঘটনার খবর পেয়ে বর্ধমান বনদপ্তরের আধিকারিক অনির্বাণ মিত্র ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তিনি জানান, আবেদনকারী তাঁদের দপ্তরে অনুমতি চেয়েছিল ঠিকই, কিন্তু গাছটি সেচ দপ্তরের জমিতে হওয়ায় সেচ দপ্তর কোনো অনুমতি দেয়নি। তবুও গাছ কাটার খবর পেয়ে তৎক্ষণাৎ অভিযান চালিয়ে আবেদনকারীকে গাছ না কাটার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


এ বিষয়ে গোহগ্ৰাম পঞ্চায়েত প্রধানের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তিনি বর্তমানে বাইরে আছেন এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন। অন্যদিকে, গাছ কাটার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন পঞ্চায়েতের বিজেপি উপপ্রধান কানন মাঝি। তাঁর বক্তব্য, “সরকারি জমির উপর থাকা গাছ কাটার অনুমতি দিতে পারে কেবল বনদপ্তর বা সেচ দপ্তর। কে বা কারা অনুমতি দিল এবং সেই সাহসই বা পেল কীভাবে—তা স্পষ্ট নয়। যদি কোনো পঞ্চায়েত আধিকারিক অনুমতি দিয়ে থাকে, তবে তার দায়ভার তাদেরই নিতে হবে”।


স্থানীয় বাসিন্দারা ইতিমধ্যেই একাধিক সরকারি দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তাঁদের দাবি, আবার গাছ কাটার চেষ্টা হলে তারা বাধা দেবেন, প্রয়োজনে বৃহত্তর আন্দোলনেও নামবেন।

Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *