বিশ্বজিৎ বিশ্বাস, নদীয়াঃ তালুকদার কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী ও কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে সোমবার দুপুরে নদীয়ার কৃষ্ণনগরে বেশকিছু সম্পত্তি দখল নিতে শহরে আসলেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রতিনিধি দল। প্রসঙ্গত, একটা সময় এই শহরে অর্থলগ্নি চিটফান্ড সংস্থাগুলি বেশ কিছু সম্পত্তি ক্রয় করে তা স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছে দোকান ঘর হিসেবে মাসিক ভাড়ার বিনিময় হস্তান্তর করেছিলেন। বর্তমানে সেইসব অর্থলগ্নি সংস্থা গুলির বিরুদ্ধে জনসাধারণের গচ্ছিত অর্থ আত্মসাৎ করার অভিযোগ ওঠে। তারই পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তীকালে ওইসব চিটফান্ড গুলির বিরুদ্ধে মহামান্য কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেন অর্থলগ্নি সংস্থা গুলির দ্বারা প্রতারিত অভিযোগকারীরা। সেই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে এই দিন দুপুরে উচ্চ আদালতের নির্দেশে অর্থলগ্নি সংস্থা গুলির ক্রয় করা এইসব সম্পত্তি দখল নিতে আসেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রতিনিধি দল। অভিযোগ, ওইসব চিটফান্ড অর্থলগ্নি সংস্থা গুলির কাছ থেকে এইসব স্থানীয় ব্যবসায়ীরা দোকান ঘর ভাড়া নিয়ে ব্যবসা করছিলেন তারা নিয়মমাফিক প্রতিমাসে ব্যবহৃত সম্পত্তির ভাড়া বিলের মাধ্যমে জমা দিতেন সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে। তবে সংস্থাগুলি উঠে যাওয়ার পর দীর্ঘদিন সেই ভাড়া তারা জমা দিতে পারেননি বলেও এই দিন জানান স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

 সোমবার কলকাতা উচ্চ আদালতের প্রতিনিধিরা এই সব সম্পত্তি দখল করতে আসলে স্বাভাবিকভাবেই সমস্যায় পড়ে যান এইসব চিটফান্ডের সম্পত্তি ভাড়া নিয়ে ব্যবসা করা স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। তাদের দাবি, ব্যবসার ক্ষেত্রেসব রকম আইনি নিয়ম মেনে  রীতিমতো ট্রেড লাইসেন্স বার করে তাঁরা এখানে ব্যবসা করেন। পাশাপাশি এই ব্যবসা করেই তারা রুটি-রুজির ব্যবস্থা করেন। এই মুহূর্তে কোন রকম প্রস্তুতি ছাড়াই তাদের এই গতিশীল ব্যবসা বন্ধ করে দিলে কার্যত অনাহারে মারা পড়বেন একাধিক ব্যবসায়ী ও তার পরিবার-পরিজনেররা। মহামান্য উচ্চ আদালতের নির্দেশে এককথায় কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েন ওইসব ব্যবসায়ীরা। যদিও ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে সঠিক তথ্যসমৃদ্ধ কাগজ পেশ করতে বলা হয় উচ্চ আদালতের নির্দেশে এইদিন সম্পত্তি দখল নিতে আসা প্রতিনিধিদের কাছে। সব মিলিয়ে কর্মসংস্থান হারানোর ভয় স্বাভাবিকভাবেই চরম দুশ্চিন্তার মধ্যে পড়ে গেলেন নদীয়ার কৃষ্ণনগর এলাকার একাধিক ব্যবসায়ীরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here